বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপ্রবণ,যেকোনো সময় ৭–৮ মাত্রার ভূমিকম্পও সম্ভব:অধ্যাপক আব্দুর রব।
শুক্রবারের ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে পুরো দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকালবেলার কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও তার প্রভাব ছিল ব্যাপক—ঢাকায় তিনজন, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে দু’জন করে এবং নরসিংদীতে পাঁচজনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, কম্পনের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়।
ভূমিকম্পটি তুলনামূলক মাঝারি মাত্রার হলেও এর পর বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের ঝুঁকির বিষয়ে আবারও সতর্ক করছেন। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান এমন একটি সক্রিয় প্লেটের ওপর, যেখানে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়াটা অবাক হওয়ার কিছু নয়। তাঁর ভাষায়, ১৮৯৭ সালের আসাম–মেঘালয়ের ৮ দশমিক ৭ মাত্রার কম্পন, জৈন্তিয়া পাহাড়ের ৮ মাত্রার ভূমিকম্প কিংবা আরাকানের ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ধাক্কা—সবই এই অঞ্চলের ঝুঁকির পুরোনো স্মৃতি।
তিনি মনে করিয়ে দেন, বড় ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির সময়চক্র অনুযায়ী এ অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো কম্পন হয়নি। তাই ‘যেকোনো সময় বড় ধাক্কা আসতে পারে’—এ সতর্কতা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রস্তুতি বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে ঢাকা ও আশপাশে এমন শক্ত কম্পন আর অনুভূত হয়নি। তাঁর মতে, এ অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবেই ভূমিকম্পপ্রবণ, তবে কখন বড় ভূমিকম্প হবে—এটা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার উল্লেখ করেন, অতীতেও দেশে আরও বেশি শক্তিশালী কম্পন হয়েছে—রাঙ্গামাটির বরকল এলাকায় ২০০৩ সালের ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প এবং ১৯১৮ সালের ৮ মাত্রার ভূমিকম্প তার উদাহরণ। তিনি বলেন, উদ্ধার-ব্যবস্থাপনায় বাজেট থাকলেও প্রস্তুতি ও মহড়া খুবই সীমিত, যা বড় বিপর্যয়ের সময় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা—ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে যে পরিমাণ সচেতনতা ও প্রস্তুতি থাকার কথা, দেশ এখনো সেই অবস্থায় নেই। সরকারি উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা দ্রুত না বাড়ালে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা কঠিন হবে বলে তারা মনে করছেন।
মতামত দিন