বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

আর্কটিক সাগরে বরফ গলে নতুন বাস্তুতন্ত্রের সন্ধান।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পৃথিবীর উভয় মেরুতে বরফ গলছে বিভিন্ন কারণে—তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ওজোন স্তরের পরিবর্তন এবং অন্যান্য পরিবেশগত প্রভাব। বিশেষ করে উত্তর মেরুর আর্কটিক সাগরে গলিত বরফের নিচে নতুন ধরনের ছোট-বিস্তারিত বাস্তুতন্ত্র উদ্ভূত হচ্ছে।
এই অঞ্চলে ব্যাকটেরিয়াগুলো নাইট্রোজেন গ্যাসকে এমনভাবে রূপান্তর করছে, যা শৈবাল বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। আগের ধারণা ছিল, পুরু বরফের নিচে এই প্রক্রিয়া ঘটতে পারে না। এখন দেখা যাচ্ছে, এটি সমুদ্রের খাদ্যশৃঙ্খল ও বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, আর্কটিককে একসময় প্রাণহীন ও হিমায়িত অঞ্চল হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু বরফ গলতে শুরু করার পর পানির নিচ থেকে নতুন তথ্য উঠে আসছে। শৈবালের বৃদ্ধি এখানে খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি তৈরি করছে, যা ছোট মাছ, সিল এবং তিমিসহ বড় প্রাণীর খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ।

জার্মানির আলফ্রেড ওয়েগেনার ইনস্টিটিউট এবং কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, আর্কটিক বরফের নিচে নাইট্রোজেন ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সত্যিই ঘটছে। অন্যান্য সমুদ্রের মতো এখানে সায়ানোব্যাকটেরিয়া নয়, বরং নন-সায়ানো ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো দ্রবীভূত জৈব পদার্থ ব্যবহার করে নাইট্রোজেন যৌগ বের করে, যা শৈবালের জন্য পুষ্টির উৎস।

শৈবাল শুধুমাত্র খাদ্য যোগান দেয় না; এটি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণেও সহায়ক। যখন শৈবাল মারা যায়, কার্বনের একটি অংশ সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়। ফলে এটি একটি প্রাকৃতিক কার্বন সিঙ্ক হিসেবে কাজ করে। গবেষকরা মনে করছেন, যদি নাইট্রোজেন ফিক্সেশন শৈবাল বৃদ্ধিকে বাড়ায়, তাহলে আর্কটিক আরও বেশি কার্বন শোষণ করতে পারবে। তবে অন্যান্য পরিবেশগত পরিবর্তন এই ইতিবাচক প্রভাবকে সীমিত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। আর্কটিক বরফের দ্রুত গলন এবং নাইট্রোজেন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ভবিষ্যতের জলবায়ুর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকরা আশা করছেন, এই তথ্য ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস আরও সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মতামত দিন