নাইজেরিয়ার জামফারায় স্বর্ণখনিতে ধসে শতাধিক শ্রমিক আটকা।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চ্য জেলার জামফারা অঙ্গরাজ্যের মারু স্থানীয় সরকারের কাদাউরি গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি স্বর্ণখনিতে বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, খনির ভিতরে একসঙ্গে কাজ করা শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে বহুজন এখনো বন্দি রয়েছে এবং ঘটনায় শতাধিক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় খনির গভীর অংশে বেশ কয়েকশ’ খনিশ্রমিক কাজ করছিলেন; হঠাৎ করে মাটি ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে তাদের ওপর চাপা পড়ে বলে উদ্ধারকর্মীরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সারাদিন লড়াই ছাড়াই উদ্ধার কাজ চলে; তবু খনির ভেতর এখনো অনেক লোক আটকে আছে—এমন আশঙ্কা চলছে।
উদ্ধারকাজে নামা স্থানীয়রা বলছেন, এ পর্যন্ত তাদের সাহায্য ও সার্বিক চেষ্টায় কিছু সংখ্যক লোককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং মাটির নিচ থেকে মৃতদেহও তুলেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে নিষ্কাশন ও উদ্ধারের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ ও নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে; ফলে ভেতরে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উদ্ধারকাজে স্বেচ্ছাসেবী দলও অংশ নিয়েছে; তাদের মধ্যে কয়েকজনও দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন; কেউ বলেছেন, মুহূর্তেই সবকিছু অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায় এবং তাদের জীবন ফিরে পাওয়া ‘অলৌকিক’।
জামফারা অঙ্গরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্বর্ণখনার জন্য পরিচিত। এসব খনি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব ও অর্থনৈতিক লোভের কারণে হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে—যার ফলে নিয়মিতভাবে বড় দুর্ঘটনা ও তাণ্ডব ঘটার ঘটনা বাড়ছে। এছাড়া এসব অবৈধ খনি থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এলাকায় সহিংসতা বাড়ায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রদত্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারি দিক থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত মৃত ও আহতের আনুষ্ঠানিক হিসাব সামনে আসেনি; জামফারা রাজ্যের কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে উন্নত তথ্য মিললে তাতে হালনাগাদ করা হবে।

মতামত দিন