আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

আল আকসা মসজিদে নতুন ইহুদি কার্যক্রম, ফিলিস্তিনিদের উদ্বেগ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

গত মাসে আল আকসা মসজিদে ইহুদিদের দলবদ্ধভাবে উচ্চস্বরে প্রার্থনা, গান ও নাচের ঘটনা ঘটেছে এবং তারা ইসরায়েলি পতাকা ওড়িয়েছে। মুসলিমদের পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত আল আকসা মসজিদে এমন দৃশ্য পূর্বে কল্পনাতেও কঠিন ছিল।

ফিলিস্তিনি ও মুসলিমদের কাছে আল আকসা কেবল একটি মসজিদ নয়; এটি স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। ইহুদিদের বিশ্বাস, এখানে তাদের তৃতীয় মন্দির বা ‘থার্ড টেম্পল’ নির্মিত হবে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে মসজিদে কেবল মুসলিমদের প্রার্থনার অধিকার নিশ্চিত থাকলেও, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত ও ইহুদিদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ফিলিস্তিনি হামলার পর এই প্রবণতা তীব্র হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে গাজা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে আল আকসা নতুন সংকটের মুখোমুখি। ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, মসজিদটির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পরিচয় ধীরে ধীরে পরিবর্তন করে এটিকে ইহুদি উপাসনালয়ে রূপান্তর করা হতে পারে। ২০১৭ সাল থেকে ইহুদিদের প্রবেশ প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে গেছে, বিশেষ করে ফজর ও জোহরের নামাজের পর।

ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও বক্তব্য এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সংসদ সদস্য অমিত হালেভি কমপ্লেক্স ভাগ করার প্রস্তাব দেন, যেখানে দক্ষিণাংশ মুসলিমদের  জন্য রাখা হবে এবং বাকি অংশ ইহুদিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কট্টরপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন গাভি ও অর্থমন্ত্রী বেজায়েল স্মোরিচও আল আকসায় তৃতীয় মন্দির পুনর্নির্মাণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনিরা সতর্ক করছেন, হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের মতো ধাপে ধাপে আল আকসার নিয়ন্ত্রণ দখল করা হতে পারে, যা মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর হুমকিস্বরূপ।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

মতামত দিন