নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: সালাহউদ্দিন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের ভূমিকাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, "সামনের দিনগুলোতে জনগণই ইতিহাস সৃষ্টি করবে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর কাঠামো এমন যে, হঠাৎ করে বড় কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে নির্বাচনকালীন দায়িত্বে পুলিশ ছাড়াও বিজিবি, আনসার ও প্রশিক্ষিত বাহিনীগুলো থাকবে। তবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব থাকবে সেনাবাহিনীর ওপর। তার ভাষায়, সেনাবাহিনী সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রায় এক লাখ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও বলেন, এবার জনগণ নিজের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। স্বচ্ছ নির্বাচনের পক্ষে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। প্রার্থীর মানসিকতা এবং ভোটারের সচেতনতাই মূল ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন জানান, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত মোট ১৭টি আইন, বিধি ও নীতিমালার পাশাপাশি কমিশনের প্রস্তাবিত ২৪১টি সংস্কার সুপারিশ রয়েছে। বিএনপিও পৃথকভাবে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, যেগুলো মৌলিক পরিবর্তন নয় বরং খুঁটিনাটি সংশোধন।
তিনি বলেন, এসব আইনি সংস্কার সংবিধান সংশোধন ছাড়াই করা সম্ভব এবং এগুলোর অনেক কিছুই বাস্তবায়নের পথে। সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও প্রস্তাব রয়েছে।
নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রতি দশ বছর বা আদমশুমারির পর বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ডিলিমিটেশন করা হোক, এমন সংবিধান সংশোধনীতে দল একমত।
বিএনপিকে ‘মধ্যপন্থী’ দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা কারও দক্ষিণপন্থী বা উত্তরপন্থী নই। আমরা বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করি। সব দল ও মতের সঙ্গে আমরা আলাপ করতে আগ্রহী।”
ইসলামপন্থী দলগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৯০ ভাগের বেশি মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক নয়, মানসিক সমর্থন রয়েছে জনগণের।কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার বিষয়ে বিএনপি ও ইসলামী দলগুলোর মধ্যে নীতিগত ঐক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতামত দিন