রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

নতুন রাষ্ট্রে পুরনো অপকৌশল: এনসিপি নেতা হাসনাতের ক্ষোভ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান দিবসে ঘোষণাপত্রের মূল চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থা ও কিছু মিডিয়া তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দলের পাঠানো শোকজের জবাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কক্সবাজার সফর ছিল এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ—একটি অসম্পূর্ণ ঘোষণাপত্র ও দলীয় সমন্বয়হীনতার বিরুদ্ধে।

তিনি দাবি করেন, ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান থেকে অনেক শহিদ পরিবার, আহত আন্দোলনকারী ও নেতৃত্বদানকারীদের বাদ দেওয়া হয়। সেখানে অংশ না নিয়ে ঢাকার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরদিন তার সফরের বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানোর পর সম্মতিও পান বলে দাবি করেন হাসনাত।

তবে এর পরপরই একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের বিমানবন্দরে যাওয়ার ভিডিও বিভিন্ন মিডিয়ার কাছে সরবরাহ করে—যেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ক্রাইম মুভি’র আবহ সংগীত জুড়ে দিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

হাসনাত বলেন, “মিডিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থার সম্মিলিত অপপ্রচারে আমাদের একটি স্বাভাবিক সফরকেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি গুজব ছড়ানো হয়েছে আমরা নাকি মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকে যাচ্ছি। অথচ তিনি তখন বাংলাদেশেই ছিলেন না।”

তিনি আরও বলেন, “এই ‘ডিমোনাইজেশন’ প্যাটার্ন পুরনো—হাসিনা সরকারের আমলে যেভাবে বিরোধীদের টার্গেট করা হতো, নতুন বাংলাদেশেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এটি আমাকে একইসাথে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে।”

সবচেয়ে নিন্দনীয় বলে তিনি আখ্যা দিয়েছেন সহযাত্রী তাসনিম জারাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চালানো কুরুচিপূর্ণ ‘স্লাটশেইমিং’কে। “শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে। রাজনীতিতে নারীদের নিরুৎসাহিত করাই এর উদ্দেশ্য,” বলেন হাসনাত।

শোকজের ভাষাতেও তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দলের উচিত ছিল মিডিয়া ও গোয়েন্দা  সংস্থার ভূমিকায় আপত্তি তোলা, কিন্তু বরং সেই অপপ্রচারের ভাষাতেই নেতাদের প্রতি প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তো নতুন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলাম—যেখানে স্বৈরতন্ত্র, চরপ্রথা ও বিভাজনের রাজনীতি থাকবে না। কিন্তু বাস্তবতা দেখছি, পুরনো কৌশলই ফিরছে নতুন মোড়কে।”

মতামত দিন