আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি হামলা: ত্রাণবাহী জাহাজ জব্দ, আরোহীরা নিখোঁজ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে কেবল ফিলিস্তিনিদের লাশই নয়, চাপা পড়ছে মানবতার সর্বশেষ চিহ্নও। একদিকে লাগাতার বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক সহায়তাও রুদ্ধ করে দিচ্ছে তেল আবিবের নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি বাহিনী।
সর্বশেষ তারা জব্দ করেছে ‘হান্দালা’ নামের একটি ত্রাণবাহী জাহাজ, যাতে ছিল শিশুখাদ্য, ওষুধ, ডায়াপারসহ বিপুল পরিমাণ জরুরি সামগ্রী।

জাহাজটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের ব্যবস্থাপনায় পাঠানো হয়েছিল।গত শনিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী এতে হানা দেয়। এরপর থেকে জাহাজটির সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি বলে জানায় সংস্থাটি।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা বলছে, জাহাজে কোনো ধরনের অস্ত্র ছিল না। এটি কেবল মানবিক সহায়তা নিয়েই গিয়েছিল গাজার জন্য। onboard ছিলেন ২১ জন আরোহী—যাদের ১৯ জনই মানবাধিকারকর্মী এবং  দুজন আল জাজিরার সাংবাদিক। ফ্লোটিলা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী শুধু জাহাজটি জব্দ করেনি, আরোহীদেরও অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সেইসঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছে সব ক্যামেরা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিশ্চিত করেছে,ইসরায়েলি অভিযান আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। কারণ, এটি ফিলিস্তিনের জলসীমার বাইরের ঘটনা। যদিও ইসরায়েল এই অভিযান নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যুদ্ধ নয়,এটি একেবারে রাষ্ট্রীয় দস্যুবৃত্তি। বহু বিশ্লেষকের মতে, ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করে পুরো গাজাকে জনশূন্য করার যে পরিকল্পনা,এটি তারই অংশ।

উল্লেখ্য, চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। খাবার, পানি, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সব রকম মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ, তবে কার্যত কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না তারা।

মতামত দিন