পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ২২১, আতঙ্কে পাহাড়ি অঞ্চল।
পাকিস্তানে চলমান মৌসুমি বৃষ্টিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং বজ্রপাতের ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২১ জনে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, প্রাণহানির পাশাপাশি অন্তত ৫৯২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৭৭ জন পুরুষ, ৪০ জন নারী এবং ১০৪ জন শিশু। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাঞ্জাবে ১৩৫ জনের মৃত্যু ও ৪৭০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ জন, সিন্ধুতে ২২ জন, বেলুচিস্তানে ১৬ জন, আজাদ কাশ্মীরে ও ইসলামাবাদে একজন করে এবং গিলগিট-বালতিস্তানে তিনজন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসে পড়া, পানিতে ডুবে যাওয়া, বজ্রাঘাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং আকস্মিক বন্যায়। গত ২৪ ঘণ্টাতেই অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট ৮০০টির বেশি ঘর, মারা গেছে ২০০টির বেশি গবাদিপশু।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বাবুসার এলাকায়, যেখানে হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ১৪ থেকে ১৫টি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটকদের চিলাস এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব এলাকায় পাহাড়ি ঢল বা বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব অঞ্চল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিচু এলাকা এবং বিদ্যুৎ লাইনের কাছ থেকে দূরে থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বৃষ্টি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি থাকছে। সতর্কতা জারি রয়েছে বিভিন্ন পাহাড়ি ও নদীবাহিত এলাকায়।
মতামত দিন