মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ২৭, শিশু শিক্ষার্থীই অধিকাংশ।
তিনি বলেন, সোমবার রাতেই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও আটজন মারা যান। আহত অবস্থায় বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৮ জন, যাদের প্রায় সবাই আশঙ্কাজনক।
আইসিইউতে আছেন আরও ৫ জন। মৃতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানান ডা. সায়েদুর। পাশাপাশি, আহতদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত রক্তের প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
সোমবার দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল ভবনের ওপর ভেঙে পড়ে বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান। সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়।
বিমানটি যখন বিধ্বস্ত হয়, তখন স্কুলের জুনিয়র সেকশনে— মূলত নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত— ক্লাস চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভবনের ভেতরে তখন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থী ছিল। বিকট শব্দে ধসে পড়া বিমানটির ধাক্কায় ভবনটি কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকেরা।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। দ্রুত শুরু হয় উদ্ধার কার্যক্রম। স্কুল ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে আহতদের বের করে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।
বিমান বাহিনী সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত যুদ্ধবিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং ১৩ মিনিটের মধ্যেই এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
সরকার এই মর্মান্তিক ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। একই নির্দেশনা রয়েছে বিদেশে বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশনেও।
নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সরকার।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাহিনী।

মতামত দিন