প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান।
বৈঠকে বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং তরুণ ও নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। জোহানেস জুট বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যে জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। আমরা আপনার প্রচেষ্টার প্রশংসা করি এবং এই যাত্রায় অংশীদার হিসেবে পাশে থাকব।”
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নতুন পরিচালক জিন পেসমে আলোচনায় বলেন, “বাংলাদেশের প্রতি আমার বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে। ২০১৩-১৫ মেয়াদে দেশটিতে কাজের অভিজ্ঞতা আমার কাছে স্মরণীয়।”
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশ এক গভীর সংকটে ছিল। অভিজ্ঞতা না থাকলেও উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন আমাদের আত্মবিশ্বাসী করেছে।” তিনি গত বছরের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলেন, “তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে নারীদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে কেবল একটি দেশের সীমানায় দেখে উন্নয়ন ভাবা যাবে না। এটি একটি আঞ্চলিক সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। সমুদ্র অর্থনীতি, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্প স্থাপনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল নারী শিক্ষা উপবৃত্তি ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যক্রমে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। তারা জানায়, গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন দিয়েছে এবং আগামী তিন বছরেও একই মাত্রার সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফী সিদ্দিকী চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও ব্রিফ করেন।
বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বাংলাদেশের সংস্কারমুখী কর্মসূচিতে সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মতামত দিন