জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ মহানগর ও দূরপাল্লায় বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরী ও দূরপাল্লায় চলাচলকারী বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পরিবহন মালিকরা। মহানগরীতে বাস ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি বর্তমান ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা ৬০ পয়সা করার দাবি জানানো হয়েছে, যা প্রায় ৪৮.৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি।
দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ২২.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানগুলোর ভাড়া পুনর্নির্ধারণের আবেদন জানায়। যদিও চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ উল্লেখ ছিল না, তবে মন্ত্রণালয় ও মালিক পক্ষের সূত্রে জানা গেছে, সরকার ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি মহানগরীতে ১ টাকা ১৮ পয়সা ও দূরপাল্লায় ৫০ পয়সা বৃদ্ধির কথা ভাবছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টা শেখ মইনউদ্দিন জানান, ‘বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা বলেন, ‘ঢাকার এবং দূরপাল্লার বাস ভাড়া এত কাছে থাকা উচিত নয়। আমরা সরকারকে মহানগরীতে ৩ টাকা ৬০ পয়সা এবং দূরপাল্লায় কিলোমিটারপ্রতি ৩ টাকা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি।’

২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তবে মালিক সমিতির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যন্ত্রাংশ, টায়ার, লুব্রিকেন্টসহ অন্যান্য খুচরা যন্ত্রাংশের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। এছাড়া ডলারের মান বৃদ্ধি ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে মালিকরা আর গাড়ি চালানো টেকসই রাখতে পারছেন না।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানো না হলে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যাবে। জীবিকার খরচ বাড়ছে, তাই ভাড়া বাড়ানো প্রয়োজন।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলছেন, ‘তেলের দাম কমেছে, তাই ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। ভালো বাস দিয়ে সেবা দিলে সরকার ভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবতে পারে।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, ‘শুধু তেলের দামের ওপর ভাড়া নির্ভর করে না। বাসের খরচ ও শ্রমিক মজুরি বেড়েছে। ঢাকায় যানজটের  কারণে অতিরিক্ত তেল খরচ হয়। তাই ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি।’

এ পর্যন্ত ডিজেলের দাম কমলেও ভাড়া যথাযথভাবে কমানো হয়নি। মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ হিসেবে বিভিন্ন খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে উল্লেখ করছেন, আর যাত্রীরা ন্যায্য ভাড়া ও ভালো সেবার আশায় রয়েছেন।

মতামত দিন