পারমাণবিক হুমকি না সরলে ইরানে থামবে না হামলা:ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি।
রোববার (২২ জুন) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইরান শুধু আমাদের নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। যতক্ষণ না তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা চূড়ান্তভাবে ধ্বংস হয়, ততক্ষণ আমরা থামছি না।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিলেও শনিবার রাতে (২১ জুন) ইরানের ফোর্দো, নাতানজ এবং ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় ‘সফল বিমান হামলা’ চালানোর কথা প্রকাশ্যে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আজ রাতের সফল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির প্রমাণ। ইরান যদি কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার চেয়েও বড় শক্তিতে জবাব দেওয়া হবে।”
এদিকে ইরানের প্রতিক্রিয়া এসেছে সতর্ক ও কৌশলী ভঙ্গিতে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এই হামলার জন্য তাদের চিরস্থায়ী পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
ইরানি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, হামলার বিষয়টি আগেই অনুমান করায় পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে তেজস্ক্রিয় উপাদান সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় পরিসরের যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালী, লোহিত সাগর এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তাও এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি উদ্বেগের কারণ।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই পক্ষকেই শান্তির পথে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। এখন প্রয়োজন দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ।”
বিশ্ববাসীর চোখ এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। পারমাণবিক উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই হয়ে উঠেছে প্রধান প্রশ্ন।

মতামত দিন