কালুরঘাট সেতুতে পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় একজন নিহত, আহত পাঁচ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে সেতুতে উঠে পড়ে এবং সেসময় সেতুর ওপর আটকে থাকা একাধিক যানবাহনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অন্তত চারটি যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সেতুতে একটি গাড়ি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থেমে গেলে অন্যান্য সিএনজি ও মোটরসাইকেলও আটকে পড়ে বলে জানা গেছে।
গুমদণ্ডী রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার আজম উদ্দিন জানান, রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ব প্রান্তে এসে ট্রেনকে থেমে লাইনম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী সেতু অতিক্রম করার কথা। তবে ট্রেনচালক সেই নির্দেশনা না নিয়েই দ্রুত সেতুতে উঠে যান। এই সময় সেতুর উল্টো দিক থেকেও যানবাহন আসছিল, যার ফলে সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তারা জানান, ট্রেনটি প্রবল গতিতে এসে একের পর এক সিএনজি ও মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর সেতু জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া যানবাহনের ধ্বংসাবশেষ।
রাত সাড়ে ১১টার পরও ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার রাত ১২টার দিকে জানান, দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ছাড়াও অন্তত চারটি যানবাহন সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রেনচালকের দায়িত্বহীন আচরণ ও সংকেত লঙ্ঘনের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে কালুরঘাট সেতুতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মতামত দিন