অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে দিনের বেলায় অস্ত্রধারী ছিনতাই,৩ জন গ্রেপ্তার।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ বৃহস্পতিবার ২৯ মে ২০২৫:

রাজধানীর মগবাজারে চলন্ত বাইক থামিয়ে কিশোর শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত দুটি চাপাতি ও একটি মোটরসাইকেল।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু।

ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।যদিও ঘটনাটি ঘটে ১৯ মে ভোরে,যখন রাজধানীর মগবাজার গ্রিনওয়ে গলিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে এক কিশোর শিক্ষার্থীর ওপর এ হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ জানান, মামাতো বোনের বাসা থেকে বের হয়ে গলিতে ঢুকতেই হেলমেট পরা তিনজন বাইক আরোহী তার পথরোধ করে। দুজন নেমে এসে চাপাতি হাতে তাকে আক্রমণ করে। তাকে একটি বাসার গেটের পাশে নিয়ে গিয়ে ঘাড় থেকে ব্যাগটি কেড়ে নেয়, সঙ্গে মানিব্যাগ ও মোবাইলও ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় পাঁচবার চাপাতি দিয়ে কোপানো হয় তাকে, যদিও বড় কোনো কাটছাঁড় না হলেও গুরুতর আঘাত পান শরীরের বিভিন্ন অংশে।

ছিনতাইয়ের সময় আব্দুল্লাহ বারবার অনুরোধ করেছিলেন অন্তত তার ব্যাগটা ফেরত দিতে, যাতে কলেজের ফির জন্য রাখা ১৪ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রক্ষা পায়। কিন্তু দুর্বৃত্তরা কোনো কথা না বলেই হামলা চালিয়ে সব নিয়ে যায়।

আব্দুল্লাহ জানান, ঘটনার পর সকালেই তিনি হাতিরঝিল থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। বরং হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলা হয়।স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে যেতে বলা হলেও দুর্বল শরীর নিয়ে তা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। এতে হতাশ হয়ে সেদিন আর মামলা না করলেও পরে ২৫ মে রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, আটক তিনজনই সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তারা চাপাতিসহ হেলমেট পরে মোটরসাইকেলে করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই করে বেড়াত।

আব্দুল্লাহ বর্তমানে রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা করছে। কলেজের ফির টাকা নিতে গিয়ে এমন ভয়ানক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে—তা কল্পনাও করেনি সে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করা হবে এবং বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মতামত দিন