তাজউদ্দীন আহমদের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজের নাম পরিবর্তনে সোহেল তাজের ক্ষোভ।
ঢাকা,আজ বৃহস্পতিবার ২৯ মে ২০২৫:
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘সরকারি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কাপাসিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ’ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের ৩৭ জেলার মোট ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বুধবার (২৮ মে) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ তাজউদ্দীনের সন্তান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান।
সোহেল তাজ বলেন, কলেজটি যখন সরকারিকরণ করা হয়, তার বহু আগেই এটি ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজ’ হিসেবে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে পরিচিত ছিল। আগে এর নাম ছিল ‘ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজ হাইলজোর’। নতুন করে এই নাম পরিবর্তন স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন প্রধান নায়কের প্রতি অবমাননার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাজউদ্দীন আহমদের ঐতিহাসিক উক্তি—‘মুছে যাক আমার নাম, তবু বেঁচে থাকুক বাংলাদেশ’—স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে আজ কেন তাঁর নামই মুছে দেওয়া হলো?কলেজটি তাঁর নিজ ইউনিয়নে অবস্থিত হওয়ায় সিদ্ধান্তটি আরও বেশি বেদনাদায়ক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়েও এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, কাপাসিয়া সদরে ইতোমধ্যেই একটি ‘কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ’ রয়েছে, যা এখনো সরকারিকরণ হয়নি। এমন অবস্থায় একই নামে দুটি কলেজ থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
সোহেল তাজ বলেন, “বিগত ৫৪ বছরে কাপাসিয়ায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের নাম নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি হয়নি। বরং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁর ভাস্কর্যে মাল্যদান করে স্থানীয় ছাত্র-জনতা যে ভালোবাসা প্রকাশ করেছে, তা প্রমাণ করে এই মহান নেতার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আজও জীবন্ত।”
এই প্রেক্ষাপটে তিনি কলেজের পূর্বনাম পুনঃস্থাপনের দাবি জানান এবং বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না, তাকে সম্মান জানানোই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়।

মতামত দিন