শীতে ৩টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, নামতে পারে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে।
শীতের মৌসুমে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বাড়তি সতর্কতার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে জানুয়ারিতে কয়েকটি এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এ পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা থাকলেও পুরো মৌসুমের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
শীতের তীব্রতা নিয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের ব্যাখ্যা, এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার গড় তাপমাত্রা বাড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশে শীত তুলনামূলক কম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে শৈত্যপ্রবাহ হবে না। মাঝেমধ্যে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচেও নামতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাব্য সময় হিসেবে ডিসেম্বরে এক থেকে দুটি মৃদু এবং জানুয়ারিতে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কথা জানিয়েছে অধিদপ্তর। জানুয়ারিতে এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় ডিসেম্বরেই তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রিতে নামতে পারে।
শুধু তাপমাত্রা নয়, কুয়াশাও শীতের অনুভূতিকে বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে নদী অববাহিকায় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কুয়াশার কারণে দিনের তাপমাত্রা ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে গেলে দিনের বেলাতেও শীত বেশি অনুভূত হতে পারে।
এদিকে শীতের আগমনের সময় বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতিও নজরে রাখছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী তিন মাসে সেখানে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অক্টোবর ও নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির স্বাভাবিক সময়।
বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্বাভাবিকতার পূর্বাভাস নেই। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে। তবে নভেম্বরেই চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমে আসতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকলে মৃদু, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে মাঝারি, ৪ থেকে ৬ ডিগ্রিতে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং এল নিনো-লা নিনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় আবহাওয়ার দৈনন্দিন হালনাগাদ তথ্য অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন