২০ হাজার কোটি টাকার ঋণে নতুন শর্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের।
ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের আর্থিক অতীত যাচাই এবং অর্থের ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালুর জন্য গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচিতে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় ঋণ অনুমোদনের ক্ষমতা, পুনঃঅর্থায়নের আবেদন এবং অর্থ লেনদেনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণ নিতে আগ্রহী ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে লিখিতভাবে জানাতে হবে, তিনি অতীতে অর্থ পাচার, জালিয়াতি, তহবিল সরিয়ে নেওয়া কিংবা ঋণের অর্থের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ঋণ অনুমোদনের আগে ব্যাংকগুলোকে এ ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
অর্থায়নের অর্থ ব্যবহারে নজরদারি বাড়াতে গ্রাহকের এসক্রো অথবা রেভিনিউ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সব লেনদেন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আয় জমা রাখার জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি জারি করা বিআরপিডি সার্কুলারের নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি ব্যাংককে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কোনো গ্রাহক যে ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ নিয়েছেন, বিশেষ কর্মসূচির ঋণ বিতরণের সময় সেই ব্যাংককেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পুনঃঅর্থায়নের আবেদন পাঠানোর ক্ষেত্রেও সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ মঞ্জুর করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অথবা পর্ষদের অর্পিত ক্ষমতাবলে বোর্ড নির্বাহী কমিটির অনুমোদন নিয়ে। অনুমোদনের পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনঃঅর্থায়নের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এর পরিচালকের কাছে পাঠাতে হবে। যৌক্তিক কারণে এ সময়ের মধ্যে আবেদন করা না গেলে কারণ উল্লেখ করে অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে, আগের নির্দেশনায় ব্যবহৃত ‘প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ শব্দের পরিবর্তে ‘পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নাম চালু করা হয়েছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের নির্দেশনাও সংশোধিত হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে নেওয়া এ কর্মসূচিতে নতুন শর্ত যুক্ত করার মাধ্যমে ঋণের অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্য।

মতামত দিন