আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ বিরক্ত হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হব: ট্রাম্প।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও নিজের ক্ষমতা প্রয়োগে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বিরোধী দলের আনা কোনো আইন পছন্দ না হলে ভেটো দিয়ে তা আটকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা হারালে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন মঙ্গলবার ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কখনো তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে পড়লে তিনি ইসরায়েলে চলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তা বোঝাতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, সেখানে তাঁর সমর্থনের হার ৯৯ শতাংশ। তাঁর ভাষায়, ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল না। গত মে মাসেও ইসরায়েলিদের মধ্যে নিজের সমর্থন ৯৯ শতাংশ বলে একই দাবি করেছিলেন ট্রাম্প।

তবে নিজ দেশের জনমত জরিপে তাঁর অবস্থান তেমন ইতিবাচক নয়। সিএনএনের ১৩ থেকে ২৬ অক্টোবরের জরিপে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬৪ শতাংশ।

ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনা

সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর ঘোষণা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশটিকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা হবে। ইসরায়েল এখন স্বনির্ভর এবং নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর সমঝোতা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইসরায়েলকে সহায়তা করতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তার বিষয়টি সামনে এনে ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিকদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের সমালোচনা করছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ভেটো প্রয়োগে প্রস্তুত

অন্যদিকে, সিবিএস নিউজকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, কংগ্রেসের এক বা দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। বিরোধী দলের প্রস্তাবিত আইন আটকে দিতে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষায়, তাঁর হাতে থাকা চূড়ান্ত ক্ষমতার নাম ভেটো। প্রয়োজনে বারবার এই ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে পরিচিত হতেও আপত্তি নেই তাঁর।

প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর দাবি, ওই রায়ের ফলে ফেডারেল সংস্থাগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। সিবিএসকে ট্রাম্প বলেন, মামলাটিতে জয় পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট এমন ব্যাপক ক্ষমতা পেয়েছেন, যা আগে ছিল না।

নির্বাচনী প্রচারণার পর রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক সপ্তাহ ধরে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জনসভা ও নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নিজের সভা-সমাবেশ রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু নির্বাচনের ফল তাঁর দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায় ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের শাসনপদ্ধতি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তও ভোটারদের আলোচনায় ছিল।

ফলে কংগ্রেসে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যেই এখন প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে ট্রাম্পকে। আইন প্রণয়নে ডেমোক্র্যাটদের বাধার মুখে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি কতটা এগোবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মতামত দিন