অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় উল্লম্ফন, ভরি ছাড়াল ৪ হাজার ডলার।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে স্বর্ণের দাম। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক দিনেই মূল্যবান এই ধাতুর দর প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বল অবস্থান, দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪১ ডলার ৭৭ সেন্টে পৌঁছেছে। গত ২৯ অক্টোবরের পর এটিই সর্বোচ্চ দর। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনে দুর্বল ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ডলারের বিনিময়মূল্যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে সম্ভাব্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্য কমে গেলে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এতে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারদরে।

সুদের হার নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ

তবে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

বাজারে ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ সাধারণত কমে যায়।

এ কারণে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পে-রোলস বা কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে। এই পরিসংখ্যান ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী

স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য মূল্যবান ধাতুর দরেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বুধবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে এখনো কোনো সমঝোতা না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ভূরাজনৈতিক এই উত্তেজনাও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দর

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। ভ্যাটসহ অন্যান্য মানের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে:

  • ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা।

  • ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা।

  • সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

এদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। অন্যান্য মানের রুপার দাম হলো:

  • ২১ ক্যারেট: ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

  • ১৮ ক্যারেট: ২ হাজার ৯১৬ টাকা।

  • সনাতন পদ্ধতি: ২ হাজার ২১৬ টাকা।

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার এসব দাম প্রতি ভরি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসাবে নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যের সূত্র: রয়টার্স।

মতামত দিন