আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময় রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি।

এর ফলে আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নতুন করে বাধার মুখে পড়তে পারে হোয়াইট হাউস।

নির্বাচনী ফলাফলে রিপাবলিকানদের এমন বিপর্যয়ের পেছনে অর্থনৈতিক অসন্তোষ, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিনেটে একাধিক আসন হারাল রিপাবলিকানরা

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান ভেঙে একাধিক আসন নিজেদের দখলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই সাফল্য আসে।

টেক্সাসে জেমস তালারিকো, কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিল্টন, আইওয়ায় জোশুয়া টুরেক এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় রয় কুপারের জয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া ওহাইওতে শেরড ব্রাউন, মেইনে ট্রয় জ্যাকসন এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজের জয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

প্রাথমিক ফলাফলে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ৫৪ এবং রিপাবলিকানদের ৪৪ বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় এই পরিবর্তনকে মার্কিন রাজনীতিতে বড় ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভোটারদের অসন্তোষের কেন্দ্রে অর্থনীতি

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের অন্যতম ব্যাখ্যা হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ পরিবারের আর্থিক চাপ নিয়ে অসন্তুষ্ট ভোটারদের একটি বড় অংশ ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

বুথফেরত জরিপের বরাতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

ইরান যুদ্ধেও চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে। ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন নাগরিকদের ব্যয় আরও বাড়িয়েছে।

যুদ্ধ পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভোটারদের একটি অংশ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন এবং সামরিক সহায়তার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচনের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচারণায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। নিজের সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় থাকলেও পরাজয়ের পর ফলাফলের দায় থেকে নিজেকে আলাদা রাখার ইঙ্গিত দেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নিজে নির্বাচনের ব্যালটে ছিলেন না। ব্যালটে থাকলে তাঁর দল বড় ব্যবধানে জয় পেত বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রশাসনের ওপর তদন্তের সুযোগ বাড়ছে ডেমোক্র্যাটদের

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য শুধু আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি করবে না, প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রেও বাড়াবে চাপ।

বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় সরকারি ব্যয়, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শুনানিতে হাজির করা এবং সরকারি নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারবে তারা।

অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে। ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে হোয়াইট হাউসকে আইন পাস ও বাজেট অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও এই ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মতামত দিন