নেতানিয়াহুকে সরাতে বিরোধীদের জোট, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আইজেনকট।
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছেন গাদি আইজেনকট। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বিরোধী জোটের দুই নেতা নাফতালি বেনেট ও ইয়ার গোলান।
রোববার (১ নভেম্বর) বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষি চলে। সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
নির্বাচনে বিরোধী জোটের চারটি দলের মধ্যে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেয়েছে। বেনেটের বি'ইয়াচাদ পার্টি পেয়েছে ১২টি এবং গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি পেয়েছে আটটি আসন। বেনেটের দল জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের রায়কে সম্মান করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেই অবস্থান থেকেই আইজেনকটকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গোলানও তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার পক্ষে রয়েছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
তবে বিরোধী জোটের সরকার গঠনের পথ এখনো পরিষ্কার নয়। নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের বিরোধী জোটের আসন ৪৮টি। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর হাতে রয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বিরোধীদের আরব দল, অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দল কিংবা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হচ্ছে।
এই সমীকরণে সবচেয়ে বেশি মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার প্রশ্নে। বিরোধী জোটের অন্যতম নেতা আভিগদর লিবারম্যান এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন। তাঁর দল ইসরায়েল বেইতেনুর সাতটি আসন রয়েছে। আইজেনকটের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানান। নির্বাচনী প্রচারণায় এমন সম্ভাবনা সামনে আনার কারণে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জোটের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেসেটের স্পিকার পরিবর্তন। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে রয়েছেন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য আমির ওহানা। পার্লামেন্টের কার্যসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের পথ তৈরি করতে তাঁকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে বিরোধী দলগুলো।
তবে এ উদ্যোগ নিয়ে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকেও চাপ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওহানাকে সরানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকলে লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না—আইজেনকটকে এমন বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা। তবে আইজেনকটের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগ চলবে এবং নেতানিয়াহুর সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাঁদের বিবেচনায় নেই।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক নিয়োগের নির্বাচন আবার আয়োজনের উদ্যোগও নিতে পারে বিরোধী জোট। গত জুনে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল রাবেলোকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের পর দেশটির হাইকোর্ট পুনরায় ভোট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের আলোচনা এগোলেও বিরোধী দলগুলোর সামনে বড় বাধা হয়ে আছে জোটের শরিকদের মধ্যে সমঝোতার অভাব। বিশেষ করে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না এবং লিকুদ পার্টির সঙ্গে ঐক্যের সম্ভাবনা রাখা হবে কি না—এসব প্রশ্নের সমাধান না হলে সরকার গঠনের পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মতামত দিন