ক্লাস্টার বোমার বিধ্বংসী ওয়ারহেড পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। এবার কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) পরীক্ষাটি চালানো হয় বলে রোববার (১ নভেম্বর) জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)। সংস্থাটির তথ্যের বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডটি যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা কার্যকর এবং এর ধ্বংসক্ষমতা কেমন, তা যাচাই করাই ছিল পরীক্ষার উদ্দেশ্য। উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরীক্ষায় ওয়ারহেডটির সর্বোচ্চ বিস্ফোরণঘনত্বের সক্ষমতা দেখা গেছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিস্তৃত এলাকার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব বলে দাবি করেছে দেশটি।
পরীক্ষার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতির বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই বিভিন্ন সামরিক ইউনিটকে তাদের অভিযান পরিচালনার লক্ষ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত অস্ত্র নির্বাচন ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। এর মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মক ড্রোন, নির্ভুল নিশানাভেদী টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এসব পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
দুই কোরিয়ার সীমান্তে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সর্বশেষ পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে। সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। এ ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং লাউডস্পিকারে প্রচারণা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার করেছে দেশটি।
কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে একটি চলমান উৎক্ষেপণযান থেকে অগ্নিশিখা ছড়িয়ে ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তু আকাশে উঠতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে একটি দ্বীপ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
তবে শনিবারের পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে গত এপ্রিলে একই ধরনের ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তিনি। সে সময় তাঁর মেয়ে জু আয়েও সঙ্গে ছিলেন।

মতামত দিন