ই-রিকশা নিবন্ধন শুরু কাল, ঢাকায় আট জোনে আট রঙের রিকশা।
বুয়েটের অনুমোদিত নকশার বাইরে তৈরি ই-রিকশা নিবন্ধন পাবে না। রাস্তায় চলাচলের অনুমতি পেতে পুরোনো যানবাহনগুলোও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে।
এই নিয়মের আওতায় আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এ সময় তিনি ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
নতুন নিয়মে রিকশার গতিসীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সড়কে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে ই-রিকশা। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এই সীমা কমে হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
নিবন্ধনের খরচ নির্ভর করবে রিকশার যাত্রী ধারণক্ষমতার ওপর। দুই যাত্রী বহনের রিকশার জন্য এককালীন ৮ হাজার টাকা এবং বছরে নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। চার যাত্রী বহনের রিকশার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ১০ হাজার ও বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন।
ঢাকার যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশনকে আটটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি এলাকার রিকশার জন্য পৃথক রং নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে এক জোনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। প্রতিটি এলাকায় কতটি রিকশা চলবে, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে ঠিক করবে।
তবে নিবন্ধন শুরু হলেই রাস্তায় থাকা সব রিকশা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে চলাচলকারী বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের ই-রিকশাই আপাতত চলতে পারবে। ধাপে ধাপে নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে অবৈধ যানবাহন সরিয়ে ফেলা হবে। নিবন্ধন শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঠিক হয়নি। কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সামনে অগ্রগতি তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন তিনি।
চালকদের জন্যও আপাতত ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়নি। নিবন্ধন প্রক্রিয়া কিছুটা এগোনোর পর এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে পর্যায়ক্রমে লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা হবে।
ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আনতে চায় সরকার। নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন ছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা যাবে না। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুমোদিত স্থানে চার্জিং স্টেশন গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জের ব্যবস্থা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব নিয়ম বাস্তবায়ন ও তদারক করবেন।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন ছাড়াই চলাচল করছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধন করে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। আইনটির ১২০ ধারার আলোকে প্রণীত নতুন বিধিমালার মাধ্যমেই এবার যানবাহনগুলোর নিবন্ধন ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সূত্র: বাসস
মতামত দিন