আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন নির্দেশ মুজতবা খামেনির, হামলা হলে জবাবের হুঁশিয়ারি

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন বহুগুণ করার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনি। সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন সম্পদের তথ্যভান্ডার হালনাগাদ রাখতেও বলেছেন তিনি।

সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া এক বার্তায় এসব নির্দেশনা দেন খামেনি। তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বার্তায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর নানা দিক তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে সামরিক কর্মকর্তারা জানান, পারস্য উপসাগরীয় উপকূল, হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর এবং দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে নিয়োজিত বাহিনী উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ, গোয়েন্দা নজরদারি সরঞ্জাম, সামরিক সহায়ক উপকরণ ও বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সামরিক প্রস্তুতির এই বিবরণ শোনার পর গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন সর্বোচ্চ নেতা। তবে শুধু অস্ত্র ও বাহিনীর প্রস্তুতিই নয়, গোয়েন্দা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং ইরানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা মতবাদ, সামরিক কৌশল ও যুদ্ধপদ্ধতি উন্নত করার ওপরও জোর দেন তিনি। আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশনাও দেন।

এ সময় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক কিংবা সন্ত্রাসী হামলা হলে তার জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন খামেনি। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের জবাবের ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না। সংঘাত শুরু হলে কখন এবং কী শর্তে তা শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ।

মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষের সব ধরনের ভৌত ও অভৌত সম্পদের তথ্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার নিয়মিত হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে খামেনি বলেন, যেকোনো পর্যায়ের হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা থাকতে হবে।

ইরানের সামরিক শক্তির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জনসমর্থনকেও প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন সর্বোচ্চ নেতা। গত আট মাস ধরে দেশটির বিভিন্ন রাজপথে জনগণের উপস্থিতিকে তিনি ইরানের আট বছরব্যাপী যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বাসিজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অবস্থান দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ও পারিবারিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেন খামেনি। তাঁদের আধ্যাত্মিক ভিত্তি ও জিহাদি চেতনা দৃঢ় করার পাশাপাশি জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয়তা পূরণ এবং পরিবারের কল্যাণে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বাসিজ সদস্য এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানোর নির্দেশ দেন।

বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের অগ্রগতি সম্পর্কে সর্বোচ্চ নেতাকে অবহিত করেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে সক্রিয় প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলোর অবস্থানের প্রশংসা করেন খামেনি। এসব পক্ষের মধ্যে সমন্বয়কে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের কৌশলগত উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মুসলিম দেশগুলোর জনগণ ও সরকারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন ইসলামি সভ্যতা গড়ে ওঠার আশাও প্রকাশ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

সূত্র: মেহের নিউজ

মতামত দিন