আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি, উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়ে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে নতুন হামলা শুরু হতে পারে বলে আলোচনা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাওকে তিনজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য অভিযান স্বল্প সময়ের হলেও এর ব্যাপকতা ও তীব্রতা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা দেননি।

এদিকে, সম্ভাব্য অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমন অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ইরানের ওপর হামলা হলে পাল্টা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এসব দেশের।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই হিসাবে নির্বাচনের পরদিন ৪ নভেম্বরকে সম্ভাব্য অভিযানের সময় হিসেবে আলোচনায় আনা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি হোয়াইট হাউস। সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে এমএস নাওয়ের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা থাকুক বা না থাকুক, সেগুলো নিয়ে প্রশাসন মন্তব্য করে না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখছেন।

সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে। তবে ৪ নভেম্বর হামলার সম্ভাব্য সময় হিসেবে আলোচনায় এলেও অভিযান চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, এমএস নাও ও এপি।

মতামত দিন