আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

নোবেল না পাওয়ার ক্ষোভে নরওয়েকে ফের আক্রমণ ট্রাম্পের, অভিবাসীদের নিয়েও হুঁশিয়ারি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভ এবারও প্রকাশ পেল নরওয়েকে ঘিরে তাঁর মন্তব্যে। দেশটিকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি নরওয়ের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাতে চান না বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে এ বক্তব্যের পর নরওয়ের নাগরিকদের প্রবেশে নতুন কোনো সরকারি বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়নি তাঁর প্রশাসন।

নরওয়ের অর্থনৈতিক অবস্থানও ট্রাম্পের মন্তব্যের বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে বিশ্বের উচ্চ আয়ের দেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় তালিকায় রয়েছে নরওয়ে। দেশটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন নরওয়েজীয় ক্রোনার, অর্থাৎ ১৮৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড মুনাফা করেছে।

এমন একটি দেশকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের মন্তব্য আসে মিশিগানের পোর্ট হুরনে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে। স্থানীয় সময় রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেন তিনি। আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়েছিল।

অভিবাসন নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, বিভিন্ন দেশের মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হলেও নরওয়ের কাউকে তিনি নিতে চান না। এর কারণ হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কারণ আমি নোবেল পুরস্কার পাইনি... তাই নরওয়ে থেকে কাউকে চাই না।’

নরওয়েকে নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এবার দেশটিকে ‘জঘন্য দেশে পরিণত হয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনকে নিয়েও একই ধরনের অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচন করে নরওয়ের রাজধানী অসলোভিত্তিক নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি। তবে কমিটির সঙ্গে নরওয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি এক নয়। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নোবেল কমিটির এক প্রতিনিধির মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চলতি মাসের শুরুর দিকেও পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়াকে নরওয়ের জন্য ‘অমোচনীয় কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

সূত্র: আরব নিউজ

মতামত দিন