আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে বিক্ষোভে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট, আটক ১,৮০০।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবারের এই আন্দোলন ঘিরে দেশটির একাধিক শহরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারি স্থাপনায় আগুন, দোকানে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে আটক করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ পুলিশ সদস্য।

বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবরের কর্মসূচিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে শ্রমিক সংগঠন ও ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরা যুক্ত হন। এতে শিক্ষা খাতের দাবি ছাপিয়ে কর্মসূচি বৃহত্তর সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়।

সহিংসতার সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি ঘটে লিমোজেস শহরে। সেখানে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৪৩ বছরের পুরোনো টাউন হল। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে এবং আগুনে এর ছাদ ধসে পড়ে। লিওঁ শহরের পর্যটন কার্যালয়ও আগুনে পুড়ে যায়। শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসে অভিযোগ করেন, দমকলকর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হয়।

রাজধানী প্যারিসে দিনের প্রথম ভাগে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সন্ধ্যার পর উত্তেজনা বাড়ে। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন এবং দোকানপাট ও রেস্তোরাঁয় হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ করে।

দেশটির আরও কয়েকটি শহরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেন্ট-এতিয়েনে পুলিশের একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক তরুণ বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র রেজিস হুয়ানিকো। লিল শহরে অ্যাপলের একটি শোরুম থেকে পণ্য লুট করা হয়। গ্রেনোবলে একটি পর্যটকবাহী ছোট ট্রেন ছিনতাই করে পুলিশের দিকে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে একদল মুখোশধারী। মার্সেই, রেন ও তুলুজেও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।

আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল স্কুলের অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষকস্বল্পতা ও বাজেট ঘাটতির প্রতিবাদে। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করে। সরকার অতিরিক্ত তিন হাজার শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দিলেও বিক্ষোভকারীরা তাতে সন্তুষ্ট হননি। পরে শ্রমিক ইউনিয়ন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা যোগ দেওয়ায় বিক্ষোভের ব্যাপ্তি বাড়ে।

ক্রমবর্ধমান এই অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জন্য রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। আগামী মে মাসে তাঁর ক্ষমতা ছাড়ার প্রস্তুতির মধ্যে এ বিক্ষোভ দেখা দিল। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালির মারিন ল্য পেন ও বামপন্থী ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিজ’-এর জঁ-লুক মেলনশোঁর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। সহিংসতার জন্য মেলনশোঁকে দায়ী করেছেন ল্য পেন।

এদিকে, সরকারি দপ্তর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। সিটি হলে লুটপাটসহ সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বাসস

মতামত দিন