অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি, দেশে কত?

 নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দর ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম কমানো হয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।

ফলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে একই দিনে ভিন্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম আগের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৯১ ডলারে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দামও ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১১ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছায়।

দেশের বাজারে নতুন নির্ধারিত দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এর আগের দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ১২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পেছনে ডলারের দুর্বলতা ও জ্বালানি তেলের দর কমার প্রভাব রয়েছে। মঙ্গলবার প্রায় ১৮ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমেছে মার্কিন ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফার হারও কমে ২ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বন্ডের মুনাফা কমলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার ব্যয় তুলনামূলক কমে যায়। আবার ডলারের দর কমলে অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়। এই দুই পরিস্থিতি ধাতুটির দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে।

তবে সামনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশকে ঘিরে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বুধবার সেপ্টেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই), বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা। শুক্রবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে বক্তব্য দেবেন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ।

স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন মনে করেন, এসব তথ্য ও বক্তব্য বন্ডের মুনাফা, ডলারের মূল্য এবং মূল্যবান ধাতুর বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্বর্ণ কেনার আগ্রহও বাজারে রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে, তা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হতে পারে। তবে বাজারের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ; ডিসেম্বরে সেই সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ। এ হিসাব শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ টুলের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি বাজারচিত্র নিয়ে ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা, সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি স্বর্ণের চাহিদাকে সমর্থন দিতে পারে। তাঁর ধারণা, বছরের শেষ ভাগ থেকে ২০২৭ সালেও স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হওয়ার পর আবার বাড়তে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও মঙ্গলবার বেড়েছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৪৪৮১ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ দশমিক ১০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৯ দশমিক ৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান, ফেডের সুদনীতি এবং ডলারের অবস্থানের ওপর। আর দেশের ক্রেতাদের জন্য আপাতত গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, বিশ্ববাজারে দর বাড়লেও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম কমেছে।

সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন