বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন, কমল ফিউচার মূল্যও।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির নতুন চিত্র জানার অপেক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত বিরত রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার ১৩ সেন্টে। আগের তুলনায় দর কমেছে ০.২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মেয়াদি স্বর্ণের ফিউচার চুক্তিতেও একই হারে পতন হয়েছে। এতে প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২০৯ ডলার ৭০ সেন্টে। অবশ্য দিনের প্রথম ভাগে স্বর্ণের দর ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল।
বাজারে ডলারের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠা মার্কিন মুদ্রাটি সোমবারও শক্তিশালী ছিল। ফলে ডলারের বাইরে অন্য মুদ্রায় আয় করা ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণের ক্রয়মূল্য তুলনামূলক বেড়ে যায়।
আগামী কয়েক দিনের অর্থনৈতিক তথ্য বাজারের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক ও খুচরা বিক্রির পরিসংখ্যান প্রকাশের কথা রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে রেখেছেন। সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির সময় সম্পদ সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবেও ধাতুটি বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্ব পায়।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা আরও দুর্বল হয়েছে। দেশটির পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নেও নেতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
স্বর্ণের বাজারে দর কমলেও অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোতে ছিল উল্টো প্রবণতা। সোমবার প্রতি আউন্স রুপার দাম বেড়ে ৬০ ডলার ৯৫ সেন্ট হয়েছে, যা আগের চেয়ে ০.২ শতাংশ বেশি। প্লাটিনামের দর ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ ডলার ১৮ সেন্টে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫৯ ডলার ৬২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

মতামত দিন