জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

রূপপুরে চুল্লি চালুর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন, উৎপাদনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্রস্তুতি আরও এগিয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হয়েছে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া।

তবে এই সাফল্যের পরও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে বাকি রয়েছে কয়েক ধাপের পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন।

রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চুল্লিতে এই বিক্রিয়া শুরু হয় বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাষায় এই পর্যায়কে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ অবস্থায় চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে চলতে থাকে।

প্রথম ইউনিটে এই ধাপে পৌঁছানোর অনুমতি মেলে গত ৮ অক্টোবর। ওই দিন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এর আগে চুল্লির স্বয়ংক্রিয় চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভালভে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। পরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যাটি সমাধান করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

চুল্লিতে বিক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া নয়। এখন চুল্লির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাই ও বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে ধাপে ধাপে এর শক্তি বাড়ানো হবে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে আরও দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, পরবর্তী পরীক্ষা নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এখন চুল্লির নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করার দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

মতামত দিন