আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হিজবুল্লাহকে ইরানের ২০ কোটি ডলার সহায়তা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইসরায়েলি অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননের ৫০ হাজার পরিবারকে নগদ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে হিজবুল্লাহ। এ কর্মসূচির জন্য ইরান থেকে প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ৩ হাজার ডলার করে দেওয়ার কথা রয়েছে। যেসব পরিবারের বাড়িঘর বা পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়েছে এবং সামরিক উপস্থিতির কারণে যারা এখনো নিজ এলাকায় ফিরতে পারছেন না, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

রয়টার্সের বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ইরান থেকে বিপুল এই অর্থ লেবাননে পৌঁছায়। অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের ভাষ্য, হিজবুল্লাহ-সমর্থিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এটি তেহরানের অন্যতম বড় সরাসরি আর্থিক সহায়তা।

নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে হিজবুল্লাহর কাছে অর্থ পাঠানোর পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই বাধা এড়িয়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবহার করা হয়েছে। ঝুঁকি বেশি থাকায় এসব লেনদেনে অস্বাভাবিক উচ্চ কমিশনও দিতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশন মোট অর্থের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পর্যন্ত উঠেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

হিজবুল্লাহর এক দায়িত্বশীল প্রতিনিধিও ইরানি অর্থ সহায়তার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অর্থ কোন পথে এসেছে, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।

এই অর্থায়নকে কেন্দ্র করে লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক নজরদারির মধ্যেও ইরানের সহায়তা হিজবুল্লাহকে তাদের আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে অর্থ বিতরণ হিজবুল্লাহর সামাজিক ভিত্তি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। সংগঠনটি অতীতেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, নিহত যোদ্ধাদের স্বজন ও নিজেদের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছে।

তবে অর্থ স্থানান্তরের বিস্তারিত পথ গোপন রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং পুরো অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের ঝুঁকি বিবেচনায় এ বিষয়ে প্রকাশ্যে তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।

ইরান থেকে আসা এই অর্থের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন