পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত অন্তত ১৫।
এক রাতেই ইউক্রেনের একাধিক শহরে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকিতে। সেখানে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভবনটির একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে তিন শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন, যাদের মধ্যে সাতজন শিশু।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। উদ্ধারকারী দল সেখানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি হামলাটিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের সঙ্গে মিলিয়ে ‘জন্মদিনের উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজধানী কিয়েভেও রাতভর একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৩টার দিকে বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভোর সোয়া ৫টার দিকে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
কিয়েভের দারনিতস্কি জেলায় হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোর ভাষ্য, ওবোলন জেলায় একটি অ-আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে হামলা। পোদিল জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি গুদাম।
হামলার আগে রাশিয়ার কয়েকটি বোমারু বিমান সীমান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। পরে তারা জানায়, রুশ বাহিনী একই অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করেছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর হিসাবে, রাশিয়া ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি ধ্বংস অথবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। একইভাবে ১৩০টি আক্রমণকারী ড্রোনের মধ্যে ১১৭টি ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাঁচটিও ভূপাতিত বা ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় দমন করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। দেশটির তথ্য অনুযায়ী, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে মোট ১৮টি স্থানে।
কিয়েভের বাইরে দিনিপ্রো ও ক্রেমেনচুকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিনিপ্রোতে পাঁচটি আবাসিক ভবন এবং ক্রেমেনচুকে চারটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় আরও দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া জাপোরিঝঝিয়া ও আলেক্সান্দ্রিয়াসহ ইউক্রেনের আরও কয়েকটি এলাকাও রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একাধিক শহরে আবাসিক স্থাপনায় আঘাতের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট

মতামত দিন