ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না: যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা থেকে ইরানের সামরিক শক্তি—মধ্যপ্রাচ্যের নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সামরিক সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুবিওর বক্তব্যে উঠে আসে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, ইরানের সামরিক তৎপরতা ও পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে গ্রিস।
রুবিওর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের অর্থনীতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যা খুব কম দেশকেই মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি তেহরান বড় ধরনের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি বড় অংশ। তার আশঙ্কা, তেহরান এমন সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে, যার ফলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এর মধ্যেই সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন রুবিও। তার বক্তব্য, তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমঝোতা হলে সেখানে এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে ইরান ভবিষ্যতেও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতেও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী হতে না দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানান রুবিও।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অঞ্চলটির নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়েও ওয়াশিংটন মিত্রদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।
রুবিওর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ বন্ধ রাখাকেই অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: আল জাজিরা
মতামত দিন