আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ভারত-সুইজারল্যান্ডের সম্পর্কে নতুন গতি, বাণিজ্যের পাশাপাশি বাড়ছে বিনিয়োগের সুযোগ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সুইজারল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ করা এবং দেশটিতে নতুন বিনিয়োগের পথ তৈরি করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি ও বার্ন। একই সঙ্গে ভারতীয় শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য সুইজারল্যান্ডে সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে জনশক্তি চলাচল নিয়েও একটি চুক্তি হয়েছে।

সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গি পারমেলিন। তিন দিনের ভারত সফরে তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করছেন। খবর এএফপির।

বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি জানান, সুইজারল্যান্ডের বাজারে ভারতের রপ্তানি বাড়াতে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে কৃষিপণ্য, ওষুধ, বস্ত্র ও প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে ভারত সুবিধা পেতে পারে।

ভারতের জন্য সম্ভাব্য আরেকটি লাভের জায়গা হলো সুইস বিনিয়োগ। বায়োটেকনোলজি, জীবনবিজ্ঞান, ব্যাংকিং, বিমা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের মতো খাতে সুইজারল্যান্ডের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান মোদি।

জনশক্তি চলাচলের চুক্তিটিও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে সামনে এসেছে। ভারতীয় শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য সুইজারল্যান্ডে আরও সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

পারমেলিনের সফরের সঙ্গে ভারতের ইএফটিএ-চুক্তির এক বছর পূর্তির বিষয়টিও বিশেষভাবে যুক্ত। ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন। এই জোটের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে দেশটিতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে।

চুক্তির ফলে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা হয়েছে। এতে ভারতের ব্যবসায়ীরা ইএফটিএর চার দেশের বাজারে পণ্য পাঠাতে বাড়তি সুবিধা পাবেন। বিপরীতে ইউরোপের এসব দেশের কোম্পানির জন্যও ভারতীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগ বিস্তৃত হয়েছে।

নিজের সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পারমেলিন। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এতদিনের সহযোগিতার অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সামনে সম্পর্ককে কোন দিকে নেওয়া যায়, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন সুইস প্রেসিডেন্ট। এবার তার সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা ও পেশাজীবীদের চলাচলের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।

ইএফটিএর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে পারমেলিনের ব্যক্তিগত সমর্থনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি। দুই দেশের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সুইজারল্যান্ডে কাজ ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

মতামত দিন