হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদির অভিযানের মধ্যে রিয়াদে পাকিস্তান-তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বৈঠক।
ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক তৎপরতা বাড়ার মধ্যে রিয়াদে বসছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিরক্ষা বৈঠক। ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র অধীনে গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে অংশ নিতে সোমবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। তার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরও রয়েছেন। সৌদি ও তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সামরিক কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার অভিযোগের পর তিন দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মক্কা চুক্তির আওতায় কমিটির বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন তিন দেশ চুক্তির আওতায় একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে সম্মত হয়।
এবারের বৈঠকে আঞ্চলিক সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পর্যালোচনার পাশাপাশি মক্কা চুক্তির অধীনে চলমান সহযোগিতার অগ্রগতিও দেখা হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় দেশটির ভূমিকা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে ইসলামাবাদ।
বৈঠকের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি সৌদি আরব নিচ্ছে—এমন খবরের মধ্যেই তিন দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠক হচ্ছে। তবে বৈঠকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

মতামত দিন