জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, ৩৮ জেলার জেলেদের জন্য ১ হাজার ৬৫৭ টন চাল বরাদ্দ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইলিশের প্রজননকাল ঘিরে জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছে সরকার। দেশের ৩৮ জেলার ১৬৮ উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারকে দেওয়া হবে মোট ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল।

পরিবারপ্রতি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ কেজি।

এবারের ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচিতে ৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। মাছ ধরতে না পারার ওই সময়ে জেলেদের জীবনযাত্রায় সহায়তা দিতেই ভিজিএফের আওতায় চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ শাখা এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, শরীয়তপুরে ২৬ হাজার ১২৯টি জেলে পরিবারকে দেওয়া হবে ৬৫৩ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন চাল। মানিকগঞ্জে ৯ হাজার ২৬২ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ২৩১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন এবং রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২ পরিবারের জন্য ১৩৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন।

রাজশাহী বিভাগের চারটি জেলার ১৯ হাজার ৪১১টি পরিবার এ সহায়তার তালিকায় রয়েছে। তাদের জন্য মোট বরাদ্দ ৪৮৫ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন। পাবনায় ৩ হাজার ৫০০ পরিবারকে ৮৭ দশমিক ৫ মেট্রিক টন, বগুড়ায় ১ হাজার ৮৯০ পরিবারকে ৪৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ৭৫০ পরিবারকে ১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হবে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১৬ হাজার ১২৬টি পরিবার পাবে ৪০৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৬১৬ পরিবার এবং গাইবান্ধায় ৬ হাজার ৫১০ পরিবার রয়েছে। দুই জেলার জন্য বরাদ্দ যথাক্রমে ২৪০ দশমিক ৪ ও ১৬২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন।

সহায়তা বিতরণে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে সরকার। শুধু নিবন্ধিত বা জেলে কার্ডধারীরাই এ চাল পাওয়ার যোগ্য হবেন। বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অথবা তার প্রতিনিধি এবং ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা বরাদ্দ পাওয়ার এক কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে উপ-বরাদ্দ দেবেন। এরপর দুই কর্মদিবসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা রয়েছে।

চাল উত্তোলন ও বিতরণের কাজ ৭ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে, ৮ অক্টোবরের মধ্যে পুরো বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

সহায়তা দেওয়ার পরও নজরদারি থাকবে বিতরণ ব্যবস্থাপনায়। প্রকৃত কত পরিমাণ চাল বিতরণ হয়েছে, তার হিসাব প্রস্তুত করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

মতামত দিন