‘আমি কিছু চাই না, দেশবাসীর ভরসা ভাঙতে চাই না’: সালমান মুক্তাদির
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিজের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৭ এলাকায় ঘটেছে এবং সরকারের চোখের সামনেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন সালমান।
সালমান বলেন, ‘আপনি কি বুঝতেছেন কতটুকু ডাউন হয়ে গেল যে, বিএনপি সরকারের চোখের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসনে এই ঘটনা ঘটছে।’ ঘটনাস্থলের কাছেই ক্যান্টনমেন্ট থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এত কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটার পরও বিষয়টি কীভাবে ঘটল, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সালমান মুক্তাদিরের ‘বিএনপি চাঁদাবাজ দল’ মন্তব্যটি ঢালাও অভিযোগ। তিনি বলেন, সালমান তাকে উদ্দেশ করেই অভিযোগ করে থাকতে পারেন। দেশে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা থাকায় তিনি এমন বক্তব্য দিতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সালমান ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করলেও স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কোনো মামলা করেননি।
মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের জবাবে সালমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বাকস্বাধীনতার কথা বলছেন, সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই তিনি তার বক্তব্যের উত্তর দিতে পারছেন। এ সুযোগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালমান বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য আপনি কি নিজে কোনোভাবে কনফিডেন্ট ফিল করেন না? আপনার মধ্যে কি একটু লজ্জা কাজ করে না? বুঝতেছেন, জিনিসটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?’ এরপর ঘটনাস্থলের কাছেই ক্যান্টনমেন্ট থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, কেন তার দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে, সেটি তিনি বুঝতে পারছেন কি না।
নিজের ‘বিএনপি চাঁদাবাজ দল’ মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন সালমান। তিনি বলেন, তিনি কেন বিএনপির কথা বলেছেন এবং কেন চাঁদাবাজির কথা বলেছেন—সেটি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ধরন তার কাছে বিস্ময়কর। মন্ত্রীর মুচকি হাসির প্রসঙ্গ টেনে সালমান বলেন, তিনিও এখন একইভাবে হাসতে চাইছেন।
সালমানের ভাষ্য, পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কিছু করতে পারছেন না, তিনিও কিছু করতে না পেরে মুচকি হাসছেন। দুজনই যেন অসহায় অবস্থায় রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটাই দেশ, এটাই বাংলাদেশ। আপনিও নাগরিক, আমিও নাগরিক। আমরা উভয়েই কিন্তু একেবারে হেল্পলেস সিচুয়েশনে।’
এদিকে স্টুডিও পুনর্নির্মাণ বা আর্থিক সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন সালমান। তিনি বলেন, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা চান না এবং তার স্টুডিওও কেউ বানিয়ে দিক—এমন প্রত্যাশা নেই। নিজের সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সালমান মুক্তাদির যথেষ্ট স্ট্রং। আমি কারও থেকে ভিক্ষা চাইবো না।’
সালমান আরও জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। চাইলে তিনি তাদের সঙ্গে গিয়ে বসতে পারতেন। তবে তিনি তা করছেন না। কারণ, বাংলাদেশের মানুষের ভরসা ভাঙতে চান না এবং নিজেকে রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতে পরিণত করতে চান না বলে জানান তিনি।
মতামত দিন