অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে কমল স্বর্ণের দাম।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে। মূল্যস্ফীতি সামলাতে বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার আরও কিছু সময় তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন ধারণায় মূল্যবান ধাতুটির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি শক্তিশালী ডলার ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দর ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে যায়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের গোল্ড ফিউচার ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮৩ দশমিক ১০ ডলারে লেনদেন হয়।

স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের বড় নজর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পরবর্তী সুদহার সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ সুদহার বেশি থাকলে সুদভিত্তিক বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি রিটার্নের সুযোগ তৈরি হয়। এতে সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদ না দেওয়া সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থান। ডলার বর্তমানে প্রায় দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। ফলে ডলারে দাম নির্ধারিত স্বর্ণ বিশ্বের অন্য মুদ্রায় লেনদেনকারী ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

মার্কিন মুদ্রানীতির দিকটিও তাই বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই আরও একবার সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

বস্টন ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় গত সপ্তাহের সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেছেন। তবে চলতি বছর ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকা কলিন্স পরবর্তী সময়ে আবার সুদহার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নেবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদহার বাড়িয়েছে। ফলে বৈশ্বিকভাবে মুদ্রানীতি কতটা কঠোর থাকবে, সেটিই এখন স্বর্ণবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তাও পুরোপুরি কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানে সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আবার জাতিসংঘকেন্দ্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে দ্রুত কোনো সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির পাশাপাশি কূটনৈতিক অগ্রগতিও বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দামের বিষয়ে বিএমআইয়ের বিশ্লেষকেরা ২০২৬ সালের গড় মূল্য প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলারের পূর্বাভাস বহাল রেখেছেন। তাঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনাকাটা বাজারে দামকে সহায়তা দিতে পারে। তাঁদের হিসাবে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হতে পারে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দিনের লেনদেনে দুর্বলতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দর ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনাম ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ১১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০১ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে।

সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন