জিপিএফে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
সরকারি চাকরিজীবীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঞ্চয়ে চলতি অর্থবছরেও সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা বহাল রেখেছে সরকার। তবে ফান্ডে জমা অর্থের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুনাফার হার কমবে।
অর্থবিভাগের রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জিপিএফের মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রভিডেন্ট ফান্ডে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রারম্ভিক স্থিতি বা চলতি অর্থবছরে জমা হওয়া চাঁদার ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ মুনাফা মিলবে। ১৫ লাখের বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ের ওপর হার হবে ১২ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি অর্থের জন্য প্রযোজ্য মুনাফার হার ১১ শতাংশ।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ জিপিএফে জমা রাখতে পারেন। অন্যদিকে কনট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা সিপিএফের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা জমা দিতে পারেন।
জিপিএফের আদলে সিপিএফ চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে। উভয় ব্যবস্থায় কর্মীর নিজস্ব জমার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত অংশ দেয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্মীদের মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে এই অংশ দিয়ে থাকে।
জিপিএফ ও সিপিএফের জমা অর্থে চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা যোগ হয়। ফলে নির্ধারিত হারে পাওয়া মুনাফা পরবর্তী সময়ে মূল সঞ্চয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন হিসাবের অংশ হয়।
এদিকে সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের বাইরে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাতেও মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সর্বোচ্চ মুনাফা ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
গ্রাহকদের বছরজুড়ে জমা দেওয়া অর্থ এবং ওই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মুনাফা ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মুনাফা সরাসরি গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে যোগ হবে।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।

মতামত দিন