জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২১৬ দিন পর যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু, সচল সার কারখানা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (জেএফসিএল) আবারও উৎপাদনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ২১৬ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

গ্যাস সংযোগ ফিরে পাওয়ার পর কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন ইউনিট সচল করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে সরাসরি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারখানার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে আরও প্রায় ১৫ দিন প্রয়োজন হতে পারে।

এ সময়ের মধ্যে কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এরপর ইউরিয়া উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেএফসিএলের ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর টানা কয়েক মাস কারখানাটি উৎপাদনের বাইরে ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর গ্যাস ফিরে আসায় কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯১ সালে যমুনা সার কারখানায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির নকশাগত উৎপাদন সক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির দুর্বলতার কারণে কারখানাটির প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা আগের অবস্থায় নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যমুনা ফার্টিলাইজারে উৎপাদিত ইউরিয়া দেশের উত্তর ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের কৃষি এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জামালপুরের পাশাপাশি শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ মোট ১৯টি জেলায় এই কারখানার উৎপাদিত সার সরবরাহ করা হয়।

দীর্ঘ সময় পর কারখানাটি ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় এসব অঞ্চলের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। এখন মূল অপেক্ষা কারখানার যন্ত্রপাতির প্রস্তুতি শেষ করে কবে নাগাদ নিয়মিত উৎপাদনে ফেরা যায়।

মতামত দিন