বাউফলে ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে মারার হুমকি, বিএনপি নেতা গ্রেফতার।
পটুয়াখালীর বাউফলে এক ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফরিদ গাজী নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস এলাকার ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫৩) ঢাকায় আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার সমর্থনে এলাকায় বিভিন্ন প্রচারণামূলক পোস্টার ও ফেস্টুন টানানো হয়। এর পরই তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের দাবি, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাকে ফোন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ফোনালাপে ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনাকে জীবন্ত পুড়াইয়া মারমু।’
এ ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, হুমকির বিষয়টি জানার পর থেকে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই ফরিদ গাজীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে থাকলেও অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদ গাজীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয়ভাবে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র তাকে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করলেও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বিষয়টি পুরোপুরি একইভাবে দেখছেন না।
আপেল মাহমুদ ফিরোজের ভাষ্য, দলের মূল আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় ফরিদ গাজীর নাম সেখানে ছিল না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা পর্যায়ে কয়েকজনকে নতুন করে যুক্ত করা হলে তখন ফরিদ গাজী সদস্য হন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং সাংগঠনিকভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জেলা কমিটিই নেবে।
এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মতামত দিন