মক্কা-মদিনায় হামলার অভিযোগে হুতিদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ওআইসির।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের পবিত্র নগরীগুলো পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসি। মক্কা ও মদিনাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় হুতি গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগ তুলে সংস্থাটি এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।
ওআইসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদ, পবিত্র স্থান ও সাধারণ মানুষের বসতিতে হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং ইসলামের মূল্যবোধের বিরোধী। সংস্থাটি মনে করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ঘটনাকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির সরকারের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওআইসি বলেছে, পবিত্র স্থান এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় রিয়াদের পাশে থাকবে তারা।
এদিকে, মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি শনাক্ত করে। নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ভূপাতিত করা হয়।
ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণাঞ্চলে পড়েছে বলে জানান তিনি। মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলেও দাবি করেন আল-মালিকি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই এর আগে একই ধরনের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মক্কার দিকে ছোড়া হয়েছিল।
দুই পবিত্র মসজিদ ও মুসল্লিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এমন হামলা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের মুখপাত্র।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি অঞ্চল দখল করার পর থেকেই যুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে। কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরু থেকে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের সংঘর্ষ আবারও বেড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

মতামত দিন