Live Shopping Factory Outlet-এ হামলা-লুটপাট, CEO আশিক খানের বক্তব্য
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে Live Shopping-এর Factory Outlet-এ সংঘবদ্ধ একটি দলের হামলা, বিশৃঙ্খলা ও পণ্য নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা উঠেছে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে লাইভে এসে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে Live Shopping কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে ভিডিও প্রমাণসহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
Live Shopping-এর CEO আশিক খান ঘটনার বিষয়ে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বলেন, “কোনো কাস্টমারই মবকারী নন, কাস্টমার তো কাস্টমারই। আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী কাস্টমারদের বিভ্রান্ত করেছে গুটিকয়েক মবকারী।”
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল থেকেই Factory Outlet-এ অসংখ্য ক্রেতা শান্তিপূর্ণভাবে কেনাকাটা করছিলেন। হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল শোরুমে প্রবেশ করে কোনো কেনাকাটা না করেই ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক ক্রেতা শোরুমের বাইরে জড়ো হয়ে যান।
Live Shopping কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি শান্ত করতে ওই দলের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা জানায়, তারা কেনাকাটা করবে না এবং অন্য কাউকেও কেনাকাটা করতে দেবে না। একই সঙ্গে অফারের নির্ধারিত নিয়মের বাইরে আগে ফুটবল গেমে শট দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে কর্তৃপক্ষ ওই দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, একপর্যায়ে তাদের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং কয়েকজন পুরুষ ও নারী কর্মীর ওপর আক্রমণের চেষ্টা করা হয়। এতে শোরুমজুড়ে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
Live Shopping-এর অভিযোগ, পরিস্থিতি একপর্যায়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে শোরুমে লুটপাটের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। গেটে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন।
কয়েকজন শোরুমের ব্লেজার, শার্ট, জুতা, সানগ্লাস, বেল্ট ও মানিব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসব ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে শোরুমের মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
Live Shopping জানিয়েছে, ঘটনার পর রাতেই ভিডিও প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অফারের নিয়ম কী ছিল?
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের আলোচিত ৳৩,০০০ Instant Cashback অফারের নিয়ম শুরু থেকেই পোস্টারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল।
3000 টাকার বা তার বেশি Shopping → Token → ২টি Shot → ১টি Goal → ৳৩,০০০ Instant Cashback
অর্থাৎ, প্রথমে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কেনাকাটা করে Token সংগ্রহ করতে হবে। এরপর ফুটবল গেমে দুটি শটের মধ্যে একটি গোল করতে পারলেই ক্রেতা পাবেন ৳৩,০০০ Instant Cashback।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই নিয়মের বাইরে কোনো দাবি মেনে নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
‘বক্তব্য না নিয়েই একপাক্ষিক সংবাদ’
ঘটনার পর দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে Live Shopping কর্তৃপক্ষ।
CEO আশিক খানের বক্তব্যে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ না করেই একপাক্ষিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তার মতে, কোনো ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
Live Shopping-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে তাদের Public Relations Department-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিডিও, লিখিত অভিযোগ এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্রেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ, বাড়ল অফারের সময়
ঘটনার কারণে যেসব ক্রেতা দূরদূরান্ত থেকে এসে ভিড় ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে কেনাকাটা কিংবা গেমে অংশ নিতে পারেননি, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে Live Shopping।
একই সঙ্গে ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে গোল শট গেম ও ৳৩,০০০ Instant Cashback অফারের সময় আরও সাত দিন বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন সময়ের মধ্যে ক্রেতারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করার পাশাপাশি আনন্দের সঙ্গে গেমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
Live Shopping কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা কোনো কাস্টমারকে অভিযুক্ত করছে না; বরং সাধারণ ক্রেতা ও সংঘবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আলাদা করে দেখার আহ্বান জানাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির CEO আশিক খান শেষ পর্যন্ত তাদের কাস্টমার, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, কঠিন সময়েও যারা সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি Live Shopping কৃতজ্ঞ
মতামত দিন