জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের।
জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বুধবার ভোরের এসব হামলাকে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানি বাহিনী।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ বলেছে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তুতি এলাকার পাশাপাশি এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের অবস্থানস্থলকে টার্গেট করা হয়।
ইরানি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় কঠিন ও তরল জ্বালানি ব্যবহারকারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছিল। যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের হ্যাঙ্গার, প্রস্তুতিমূলক এলাকা এবং যুদ্ধবিমান শেল্টারও ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে।
আইআরজিসি এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘আগ্রাসীকে শাস্তি দেওয়ার অভিযান’। ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘আগ্রাসী হামলার’ প্রতিশোধ নিতেই অভিযানটি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে পৃথক আরেক অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার—DDG-119 ও DDG-53—কে লক্ষ্যবস্তু করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। ইরানের দাবি, এসব যুদ্ধজাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও এজিস ব্যবস্থা ছিল।
হামলার ফলে মার্কিন পক্ষের ‘ব্যাপক’ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করলেও এর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানায়নি ইরানি বাহিনী। কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, একই সময়ের অন্যান্য অভিযানে দুটি মার্কিন নৌযান, আটটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা আরও ১০টি জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়। এসব অভিযানও একই পাল্টা জবাবের অংশ বলে জানিয়েছে ইরানি বাহিনী।
তবে ইরানের এই দাবিগুলোর কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি, যুদ্ধবিমান কিংবা ডেস্ট্রয়ারগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হামলার প্রভাব নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মতামত দিন