জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব পাওয়ার অংশ বাড়ানো হয়েছে। আগে ১৫ শতাংশ থাকলেও এখন তা ২৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

টার্মিনালটির কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ইন্টারনেট সংযোগ এবং অপারেশনাল ব্যবস্থার পরীক্ষা প্রতিদিনই করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ইন্টিগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এক বা দুটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে এর অপারেশন বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবেই হোক, আমরা ১৬ ডিসেম্বর এটা ওপেন করতে চাই।’

সম্পূর্ণ চালু হলে বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি উড়োজাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে। নতুন টার্মিনালে সর্বোচ্চ ২৫০টি উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী।

থার্ড টার্মিনাল ঘিরে সরকারের আরেকটি প্রত্যাশা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ। সরকার মনে করছে, আগামী বছর থেকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। বিমানবন্দরে পৌঁছেই তারা যেন বাংলাদেশের আধুনিক অবকাঠামো ও সক্ষমতার চিত্র দেখতে পান, সেই লক্ষ্যেই টার্মিনালটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আর্থিক দায়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এর ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এখনো প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা বাকি রয়েছে।

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে শুধু নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা এবং এর সেবার মান নিশ্চিত করাকেই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সীমিত কার্যক্রম শুরুর পর ধাপে ধাপে টার্মিনালটির পূর্ণ অপারেশন চালু করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে এর পূর্ণ দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মতামত দিন