কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট ফের বন্ধ, বাকি ৫ ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট বর্তমানে চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে ২২০ থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক সীমায় চলে আসায় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার রাত ৯টার দিকে গেটগুলো বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছেন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সময় হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ৯৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। পানির উচ্চতা কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে আসার পর অতিরিক্ত পানি ছাড়ার জন্য খোলা রাখা গেটগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। টানা বৃষ্টিতে হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় গত ২৯ আগস্ট বাঁধের ওপর চাপ কমাতে স্পিলওয়ের সব ১৬টি গেট খুলে পানি ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই দিন রাত ৮টার দিকে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি বের করা হয়।
পরে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে থাকলে ধাপে ধাপে গেট খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে স্পিলওয়ের প্রতিটি গেট সর্বোচ্চ তিন ফুট পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছিল। এর ফলে বিপুল পরিমাণ পানি স্পিলওয়ে দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হয়।
কাপ্তাই পিডিবির তথ্য বলছে, ২৯ আগস্ট দুপুর ২টায় হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। বৃষ্টির কারণে অল্প সময়ের মধ্যে পানির স্তর দ্রুত বাড়ায় বাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ২৩০ থেকে ২৪০ মেগাওয়াট। পাঁচটি ইউনিট চালু থাকায় প্রায় ২২০-২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বাসসকে জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। প্রয়োজন দেখা দিলে স্পিলওয়ের জলকপাট পুনরায় খোলা কিংবা বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন