অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের জমি-গাড়ি-ব্যাংক হিসাব নিয়ে আদালতের আদেশ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সম্পদ সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সম্পদ নিয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয় আদালতে।

শুনানি শেষে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থাকা তার ২৮৪ শতক জমি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই আদেশে মুজিবুল হকের মালিকানাধীন টয়োটা কোম্পানির দুটি জিপ জব্দ এবং ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির আজ এসব আদেশ দেন।

দুদকের তদন্তে মুজিবুল হকের নামে এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে বলে আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের ভাষ্য, এসব সম্পদ যাতে মামলার নিষ্পত্তির আগে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা হাতছাড়া করা না যায়, সে কারণেই আদালতের কাছে ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।

দুদকের করা মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মুজিবুল হক অবৈধভাবে সম্পদ গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগটি তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের সময় বিভিন্ন রেকর্ড ও নথি যাচাই করে সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তরের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার বিষয়টি দুদকের নজরে আসে।

আবেদনে সংস্থাটি বলেছে, মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে এসব সম্পত্তি বিক্রি, স্থানান্তর বা অন্য কোনোভাবে বেহাত হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে তা উদ্ধারে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সম্পদ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা হিসেবে জমি ক্রোক, গাড়ি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সূত্র: বাসস

মতামত দিন