জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

খুলেছে সুন্দরবন, ভ্রমণের আগে জেনে নিন ১০ জরুরি বিষয়।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ তিন মাসের বিরতির পর আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে সুন্দরবন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ভ্রমণপ্রত্যাশীরা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটির নির্ধারিত পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে সুন্দরবন ভ্রমণে যাওয়ার আগে যাতায়াত, অনুমতি, নৌযান, খরচ ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ বেশ কিছু বিষয় জানা জরুরি।

১. আগে থেকেই নৌযান বুকিং করুন
সাধারণত সুন্দরবনের ভ্রমণ তিন দিন দুই রাতের হয়ে থাকে। কোনো ট্যুর কোম্পানির মাধ্যমে গেলে যাত্রার আগে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা অগ্রিম দিতে হয়। উৎসব কিংবা দীর্ঘ ছুটির সময়ে পর্যটকের চাপ বাড়ে। তাই এসব সময়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে কয়েক মাস আগেই বুকিং সম্পন্ন করা ভালো।

২. খরচ নির্ভর করবে জলযানের ধরন ও প্যাকেজের ওপর
নন-এসি জলযানে জনপ্রতি আনুমানিক ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং এসি জলযানে ১৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। প্যাকেজের মধ্যে সাধারণত বন বিভাগের অনুমতি ফি, থাকার ব্যবস্থা, গাইড, সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার এবং দুটি স্ন্যাকস থাকে। অর্থাৎ নৌযানে ওঠা থেকে সুন্দরবন ঘুরে আবার ফিরে আসা পর্যন্ত অধিকাংশ ব্যয়ই প্যাকেজের আওতায় থাকে।

৩. সুন্দরবনে প্রবেশের নিয়ম মেনে চলুন
ইচ্ছেমতো বনের যেকোনো এলাকায় প্রবেশ করা যায় না। বন বিভাগের অনুমতি বা বৈধ পাস নিয়ে নির্ধারিত রুট ও পর্যটনকেন্দ্রে যেতে হয়। কিছু সংরক্ষিত বা বিশেষ এলাকায় যেতে হলে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

৪. কোন দিক দিয়ে যাবেন, সেটিও আগে ঠিক করুন
সুন্দরবরে যাওয়ার প্রধান প্রবেশপথগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর। তবে লঞ্চ বা বড় জাহাজে ভ্রমণের ক্ষেত্রে খুলনা ও মোংলা থেকে যাত্রার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে খুলনা ও মোংলায় সরাসরি বাস পাওয়া যায়। খুলনাগামী নন-এসি বাসে ভাড়া প্রায় ৭০০-৮০০ টাকা, এসি বাসে ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। মোংলাগামী নন-এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৭০০ টাকা। খুলনায় ট্রেনেও যাওয়া যায়।

৫. একদিনের ভ্রমণেও ঘুরে আসা সম্ভব
মোংলা থেকে ভোরে নৌযানে রওনা দিলে একই দিনে করমজল ও হাড়বাড়িয়া ঘুরে দেখা সম্ভব। মোংলা ফেরিঘাট থেকে দিনের জন্য নৌযান ভাড়া নেওয়া যায়। শুধু করমজল যেতে নৌযানের ভাড়া প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকা। আর করমজল ও হাড়বাড়িয়া দুটিতে গেলে খরচ হতে পারে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এ ধরনের যাত্রায় দুপুরের খাবার সঙ্গে নেওয়া সুবিধাজনক।

৬. একাধিক ঘাটে পর্যটন নৌযান পাওয়া যায়
মোংলা, খুলনার চালনা এবং সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় সুন্দরবন ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ট্রলার ও নৌযান রয়েছে। একদিনের ভ্রমণে মোংলা থেকে পশুর নদ হয়ে করমজল ও হাড়বাড়িয়া, খুলনা থেকে রূপসা-শিবসা নদীপথে কালাবাগী ও শেখেরটেক এবং মুন্সিগঞ্জ থেকে কলাকাছিয়া ও দোবেকী এলাকায় যাওয়া যায়।

৭. খুলনা থেকে রয়েছে বহু জলযানের ব্যবস্থা
খুলনা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য বর্তমানে প্রায় ৬৫টি জলযান রয়েছে। এসব নৌযানে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ৬ জন থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ জন পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণ করতে পারেন।

৮. বিকল্পভাবে ইকোকটেজেও থাকা যায়
খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন কৈলাসগঞ্জ ও বাণীশান্তা ইউনিয়নে বেশ কিছু ইকোকটেজ গড়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক এসব কটেজে অবস্থান করে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করেন। খুলনা থেকে মোংলা হয়ে কিংবা চালনা হয়ে এসব স্থানে যাওয়া যায়। সরাসরি মোংলা থেকেও যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

৯. ট্যুর এজেন্সি নাকি নিজস্ব ব্যবস্থাপনা—সিদ্ধান্ত নিন আগে
ট্রাভেল এজেন্সির প্যাকেজ নিলে সাধারণত প্রবেশ অনুমতি, খাবার, থাকা ও গাইডসহ বিভিন্ন খরচ একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর নিজ উদ্যোগে একদিনের সফর করলে আলাদা আলাদাভাবে প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশ ফি দিতে হয়।

১০. পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন
সুন্দরবনে ড্রোন ওড়ানো এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। বনের পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনো সামগ্রী বা কর্মকাণ্ড করা যাবে না। বিশেষ করে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেটসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জিনিসপত্র বনে না নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি বনের পশুপাখি যাতে বিরক্ত না হয়, সেদিকেও পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে।

সুন্দরবনের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়ম মেনে ভ্রমণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে গেলে যেমন ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে, তেমনি এই অনন্য বনাঞ্চলের পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।

মতামত দিন