আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

কিয়েভে রুশ হামলায় নিহত ১২, ক্ষতিগ্রস্ত রেল ও আবাসিক এলাকা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে চালানো রাতভর হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও রেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কিয়েভের বাইরে বোরিসপিল এলাকাতেও হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে রুশ বাহিনী। ওই এলাকায় চারজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

কিয়েভে হামলার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা জানিয়েছেন, রুশ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকা এবং রেলপথ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আঘাত করেছে। রাজধানীতে নিহত হয়েছেন আটজন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি রেল ডিপোসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এসব হামলায় রেলওয়ের ছয় কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

কিয়েভে এটি রাশিয়ার টানা ষষ্ঠ দিনের হামলা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের পাঁচ দিনও প্রায় প্রতিদিন রাজধানীতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ধারাবাহিক এসব হামলায় বসতবাড়ি, গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

হামলার সময় ইউক্রেনের বিমানবাহিনী রুশ বাহিনীর পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছে। তবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে জানা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিহা। রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া বিদেশে আটকে থাকা রুশ সম্পদ ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহারের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, চলমান হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন