মালয়েশিয়ায় ২ লাখ কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বিনামূল্যে সুযোগ পাবেন ১০ হাজার।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ধাপে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো কস্টে’ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রথম দলটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনায় বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশটিতে যাবে।
এর ফলে কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হবে বলে জানান উপদেষ্টা।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ভাঙার বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগের ব্যবস্থায় মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দিতে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। ফলে অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সির সঙ্গে নতুন ৩১২টি এবং বোয়েসেল মিলিয়ে মোট ৩৩৮টি এজেন্সির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, নতুন করে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়েও তথ্য দেওয়া হয়। আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
খাদ্য ও কৃষি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে বলা হয়, বর্তমানে দেশে ১২ লাখ ৮৬১ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ দরিদ্র পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা।
বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য আনতেও সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। গ্রামাঞ্চলের সংকট কমানো এবং রাজধানীর বাইরে শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে ডেসকো ও ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে সেই বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সমন্বিতভাবে বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নতুন এফএসআরইউ চালু হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। তখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব যানবাহনের নির্দিষ্ট কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ ও নিবন্ধনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তুত করা খসড়া বিধিমালা দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।
সরকারের এসব কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
মতামত দিন